ময়মনসিংহে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ঐতিহাসিক সফরকে ঘিরে রাজনীতিতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ ২২ বছর পর দলের প্রধান ময়মনসিংহে আসছেন, এবং সার্কিট হাউস মাঠে একটি বিশাল নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) নগরীর তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় প্রস্তুতি সভায় এই ঘোষণা দেন বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম। সভা শেষে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি সরেজমিনে সার্কিট হাউস মাঠ পরিদর্শন করেন।
শরিফুল আলম বলেন, “আমাদের প্রাণের নেতা, যার নেতৃত্বে আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, তিনি এবার সশরীরে আমাদের মাঝে আসছেন। এটি আমাদের জন্য এক বিশাল আনন্দ ও গর্বের বিষয়। পুরো ময়মনসিংহে এখন ঈদের মতো উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে।”
জনসভা সফল করতে ইতিমধ্যে বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা এবং ময়মনসিংহ উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগরের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত প্রচারণা এবং উপজেলা ভিত্তিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন জানান, সর্বশেষ ২০০৩ সালে রোড মার্চ কর্মসূচিতে তারেক রহমান ময়মনসিংহে এসেছিলেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর তার প্রত্যাবর্তন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, “তারেক রহমান এখন কেবল বিএনপির সম্পদ নন, দেশেরও সম্পদ। সর্বস্তরের মানুষ তাকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”
আগামী মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এই জনসভা। সেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। একই মঞ্চে চার জেলার মনোনীত ২৪ জন প্রার্থীকে জনগণের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করানো হবে।
ময়মনসিংহ-৮ (ইশ্বরগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু জানান, “সার্কিট হাউস মাঠের জনসভা ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জমায়েত হবে। তারেক রহমান জনগণের চাওয়াকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন, যা ইতিমধ্যেই দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, জনসভার জন্য মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সভাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ টিম নিয়োগ করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

































