ভোট দিতে গিয়ে তালাকপ্রাপ্ত নারীর পাশে বিএনপি

ভোট দিতে গিয়ে তালাকপ্রাপ্ত নারীর পাশে বিএনপি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:০৫, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দিতে যাওয়ার অভিযোগে স্ত্রীকে তালাক দেন ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার।

এ ঘটনায় আলোচনায় আসে গৃহবধূ বিবি জহুরার নাম। ঘটনার পরপরই জহুরার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জহুরার বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার। তারা জহুরা, তার শাশুড়ি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, বিএনপি জহুরার বিপদের দিনে পাশে আছে। তার সংসার পুনঃস্থাপন, পরিবার পরিচালনা এবং সন্তানদের ভরণপোষণেও দলটি সর্বাত্মক সহায়তা করবে।

পাশাপাশি ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার জানান, জহুরাকে সব ধরনের আইনি ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোট দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জহুরাকে তালাক দেন কাওসার। ঘটনার পর জনরোষের মুখে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে ফিরে আসেন।

স্থানীয়দের চাপে পড়ে তখন নিজের ভুল স্বীকার করেন তিনি। আলোচনার একপর্যায়ে জানান, একজন মুফতির পরামর্শ নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে আবার সংসার শুরু করতে চান। যদিও ঘটনার পর থেকে জহুরা তার শাশুড়ি ও তিন সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছেন।

জহুরা জানান, এটি ছিল তার জীবনের প্রথম ভোট। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন। সেই কারণেই তাকে মৌখিকভাবে তালাক দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক সমাধানের মাধ্যমে কাওসারের সংসারেই আমৃত্যু কাটাতে চান।

অন্যদিকে কাওসারের মা শরীফা খাতুন বলেন, তার ছেলে গুরুতর ভুল করেছে এবং এর শাস্তি তাকে পেতেই হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কাওসার ঘরে ফিরতে চাইলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই থাকতে হবে। জহুরাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে তাকে আর বাবার বাড়িতে জায়গা দেওয়া হবে না।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই বাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান—আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪)।

পিতার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার আগে ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটাই ঘরে আবদ্ধ হয়ে পড়েন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement