ইরানের সরকার শিগগিরই ভেঙে পড়তে পারে: জার্মানি

ইরানের সরকার শিগগিরই ভেঙে পড়তে পারে: জার্মানি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২৩:২৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন–পীড়নের প্রেক্ষাপটে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মন্তব্য করেছেন, ইরানের বর্তমান সরকার খুব বেশি দিন টিকে থাকতে নাও পারে। তার মতে, শাসকগোষ্ঠী এখন মূলত শক্তি ও বলপ্রয়োগের ওপর নির্ভর করেই ক্ষমতা আঁকড়ে আছে, যা তাদের পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, ইরানের সরকার কার্যত শেষ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ভারত সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, কোনো সরকার যদি কেবল সহিংসতা ও দমননীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে তার অবসান অনিবার্য।

তার ভাষায়, “আমার বিশ্বাস, আমরা এখন সেই শেষ কয়েকটি দিন বা সপ্তাহ প্রত্যক্ষ করছি।” তিনি আরও বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা জনগণের প্রকৃত ও বৈধ সমর্থন ইতোমধ্যেই হারিয়েছে।

তবে এই অস্থির পরিস্থিতির মাঝেও মের্জ আশা প্রকাশ করেন, ইরানে সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। তিনি জানান, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে জার্মানি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে। এসব দেশ সম্মিলিতভাবে চায়, ইরানে যেন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কূটনৈতিক পথই তাদের প্রথম পছন্দ হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বিমান হামলাসহ অন্যান্য সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মতে, চলমান বিক্ষোভের ফলে ইরানের সরকার দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে, তাই যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন শহরে বড় পরিসরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এসব সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও হতাহত হয়েছেন।

বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি এবং বহু বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে, চলমান বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ইরানের শাসনব্যবস্থা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement