রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রত্যাবাসনেই সম্ভব: প্রধান উপদেষ্ট

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রত্যাবাসনেই সম্ভব: প্রধান উপদেষ্ট ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:১৮, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান—এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিলে সাম্প্রতিক সময়ে যে ‘নাটকীয় হ্রাস’ ঘটেছে, সে বিষয়টি তুলে ধরেন।

পাশাপাশি শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানো এবং জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ সময় অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক মহলে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এর মধ্যে রমজান মাসে জাতিসংঘের মহাসচিবের কক্সবাজার শিবির পরিদর্শন একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও রোহিঙ্গা সংকট এখনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মাত্রার মনোযোগ পাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিবিরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান কোনোভাবেই স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এর ফলে ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নানা ধরনের সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ বাস্তবতায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন করে সক্রিয় ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমার থেকেই আসতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শিবিরগুলোতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ একটি তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যাদের প্রযুক্তিতে সহজ প্রবেশাধিকার রয়েছে। এই পরিস্থিতি কোনো পক্ষের জন্যই সুখকর নয়। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হলো রোহিঙ্গাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পথ সুগম করা।

বৈঠকে ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ড. ইউনূস জানান, ভাসানচর থেকে অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে চলে আসছে, যা দেশের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সম্ভাব্য গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়াও আলোচনায় উঠে আসে।

ইউএনএইচসিআরের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন জানান, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন এবং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ২০১৭ সালের পর থেকে একাধিকবার বাংলাদেশে এসে শিবিরগুলো পরিদর্শন করেছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি জানান, নির্বাচন পরিচালনায় একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করাই সরকারের লক্ষ্য।

একটি বিশ্বাসযোগ্য, সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ ও নতুন ভোটারদের জন্য পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময়, উৎসবমুখর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে সরকার সচেষ্ট।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement