নির্বাচনী প্রচারণায় আচরণবিধি মেনে চলছেন না বহু প্রার্থী। সাদা–কালোর বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থী রঙিন ব্যানার ব্যবহার করছেন।
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে তারা বিদ্যুতের খুঁটি ও সরকারি স্থাপনাতেও প্রচার সামগ্রী টাঙাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পেশিশক্তির রাজনীতিই মূল কারণ, আর এতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বহীনতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। এই সময়েই সারাদেশে প্রচারণা তুঙ্গে, তবে একই সঙ্গে চলছে আচরণবিধি ভাঙার প্রতিযোগিতাও।
উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং এনসিপির প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সাদা–কালোর বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে রঙিন ব্যানার টাঙিয়েছেন। বিদ্যুতের খুঁটিতে ফেস্টুন লাগানো নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হচ্ছে না।
ঢাকা–১০ আসনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও কলম প্রতীকের প্রার্থীরা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাতেও প্রচার সামগ্রী স্থাপন করেছেন।
রাজধানীর ঢাকা–১২ ও ১৩ আসনসহ প্রায় সব নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, পোস্টারবিহীন নির্বাচনে প্রচারণা চালানো কঠিন, আর একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, পেশিশক্তির রাজনীতির কারণে আইন মানা হচ্ছে না। তিনি নির্বাচন কমিশনের শিথিলতাকেও দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার দাবি করেছেন, অনিয়ম ধরা পড়লেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি বলব না শতভাগ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। তবে আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে।”
ভোটের প্রচারণায় যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, তারা নির্বাচিত হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন—এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।




























