অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন্ধ ৪০০ কারখানা, বেকার দেড় লাখ শ্রমিক: জুলকারনাইন সায়ের

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন্ধ ৪০০ কারখানা, বেকার দেড় লাখ শ্রমিক: জুলকারনাইন সায়ের ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৩১, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের শিল্প খাতে একের পর এক সংকট তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০০টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে চাকরি হারিয়েছেন আনুমানিক দেড় লাখ শ্রমিক।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক শিল্পকারখানা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশই গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের মতো শিল্প, যেগুলোর অনেকগুলোই শতভাগ রপ্তানিনির্ভর। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের জীবনে—চাকরি হারিয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ। প্রতিটি শ্রমিকের ওপর যদি গড়ে তিনজন করে পরিবারের সদস্য নির্ভরশীল হন, তাহলে এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে চার লাখে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ বা সহায়তা না থাকায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণাকে তিনি শিল্প খাতের জন্য আরও বড় অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন।

পোস্টের শেষ অংশে জুলকারনাইন সায়ের প্রশ্ন তোলেন ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়েও। তিনি লেখেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক ইস্যুতে বেশ সক্রিয় দেখা গেলেও, একের পর এক মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা থমকে যাওয়ার মতো গুরুতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো কার্যকর তৎপরতা চোখে পড়ে না। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে শোনা যায় একটি স্লোগান— “ক্ষমতা না জনতা?” যার উত্তরে ধ্বনিত হয় “জনতা-জনতা”।

কিন্তু শতাধিক শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া ও লক্ষাধিক শ্রমিকের বেকারত্বের বাস্তবতায় ছাত্র সংগঠনগুলোর এই নির্লিপ্ত আচরণ নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দেয়— সত্যিই কি তারা জনতার পক্ষে, নাকি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে?

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement