রংপুরে দীর্ঘ ৬০ বছর পর লোহার খনিতে নতুন করে কূপ খনন শুরু, থাকতে পারে স্বর্ণ
Published : ১৫:১৩, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘ ৬০ বছর পর দেশের প্রথম লোহার খনিতে নতুন করে আবারও কূপ খননের মধ্য দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ভেলামারী পাথারে কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
জানা যায়, ১৯৬৫ সালে উপজেলার শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের ভেলামারী পাথারে খনির প্রাথমিক সন্ধান পেয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগ। ওই সময়ে খনি চিহ্নিত করতে চারটি কূপ খনন করে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে রাখা হয়।
যা আজও দৃশ্যমান। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধের পরপরই তৎকালীন সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাগণ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য চিত্রানুযায়ী একটি বিমান ও গাড়িবহর নিয়ে প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিশাল মাঠে আসেন।
ওই সময়ের খনিজ বিজ্ঞানীরা এখানে লোহার খনির উৎস হিসেবে নিশ্চিত হয়ে ভেলামারী পাথারে খনির মুখে কংক্রিটের ঢালাই করে চিহ্ন দিয়ে এলাকার প্রাথমিক জরিপ কাজ সম্পন্ন করে চলে যান।
এরপর বিভিন্ন সময় খনির কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে দীর্ঘ ৬০ বছর পর সেই (ভূতাত্ত্বিক খনন কূপ জিডিএইচ-৭৯/২৫ নামে) খনিতে শনিবার অনুসন্ধান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ উদার, যে কারণে সৃষ্টিকর্তা এ এলাকায় মাটির নিচে খনিজ সম্পদ দিয়েছেন। এখানে যে খনিজ সম্পদ পাওয়া যাবে তা উত্তোলনে সহায়তা করবে সরকার। এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি জাতির স্বপ্ন। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর কূপ খনন কার্যক্রমের আয়োজন করে।
এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল মান্নান, উপ-মহাপরিচালক আলী আকবর। জিএসবির উপ-মহাপরিচালক প্রকৌশলী আকবর আলী বলেন, এর আগে এটা একবার খনন করা হয়েছিল। এটাকে ইডিএস-১৫ বলে, আমরা সেখানে কিছু তথ্য পেয়েছি।
স্বাধীনতার পর ২০০০ সালে জিডিএইচ-৫৪ নামে একটা কূপ খনন করে ভূগর্ভের অবস্থা জানার জন্য সার্ভে করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালেও মিঠিপুর ইউপি’র কাশিমপুর গ্রামে ৭৮/২৩ নামে অপর একটি কূপ খনন করা হয়। সেখানেও আমরা কিছু খনিজ সম্পদের উপাদান পেয়েছি। চলতি বছর এক হাজার ২শত মিটার খনন করা হবে।
খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, রিসোর্স কনফার্ম করার পর যদি জানা যায়, এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সম্পদ আছে ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয়। খনিজ সম্পদ আহরণ করে যদি লাভ হয় তাহলে আমরা সরকারকে খনি থেকে উত্তোলন করতে অনুরোধ করবো।
এখানে কী ধরণের খনিজ সম্পদ থাকতে পারে, অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানকার বেজমেন্ট হাই সুতরাং এখানে ধাতব খনিজ পদার্থ যেমন লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এমনকি স্বর্ণও থাকতে পারে। তবে সঠিকটা জানার জন্য অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. পপি খাতুন, শানেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ও মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রমুখ।
বিডি/এএন


































