৯ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত হবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি
Published : ১৬:০৪, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রস্তুতি চলছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এ চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। সম্ভাব্য চুক্তিতে মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান কেনা এবং জ্বালানি খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ আমদানি-বিষয়ক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে এবং ৯ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য অনুমোদন চেয়ে সামারি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ ধার্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে ৩১ জুলাই তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এই শুল্ক হ্রাস কার্যকর হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে কিছু ছাড় দিতে হয়। এখন চলমান আলোচনার লক্ষ্য শুল্ক আরও কমিয়ে বাংলাদেশের তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা অর্জন করা।
শুল্ক কত হতে পারে—এ বিষয়ে সচিব বলেন, বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ। অন্যান্য দেশেও অনুরূপ হার রয়েছে, আবার অনেক দেশে বেশি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হয়তো কিছু কমতেও পারে। তবে চূড়ান্ত হার নির্ধারণের বিষয়টি ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চূড়ান্ত হবে।
চুক্তির সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও কিছু ছাড় দিতে হবে। গত আগস্টে শুল্ক হ্রাসের পরও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। এ রকম চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং এতে দুই দেশের জন্যই লাভজনক অবস্থান তৈরি হবে।
এদিকে, ভারতের সঙ্গে ইইউ-র সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এফটিএ নিয়ে সরকার কোনো উদ্বেগ দেখাচ্ছে না। সচিব বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। ভারতের সক্ষমতা থাকলেও তারা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী নয়, বরং উৎপাদন ও উপকরণের ক্ষেত্রে পরিপূরক অবস্থায় রয়েছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর নতুন শুল্ক আর সুযোগ-সুবিধার পরিবর্তন বিষয়ে সচিব জানান, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিভিন্ন এফটিএ-র জন্য আলোচনা করেছে। জাপানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত হবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ও আলোচনার মধ্যে রয়েছে। বিমান কেনা শুধু বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হবে এবং মিলিটারি ইস্যু এ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নয়। চুক্তির আওতায় বিমান সংখ্যা, সরবরাহের বছর এবং কনফিগারেশন নির্ধারণ হবে।
গত ছয় মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ নেতিবাচক হলেও সচিব জানান, এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনায় ভালো। বিশ্বের গড়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি তুলনায় বাংলাদেশ অনেকটা অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার আশা করছে। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়ানো হয়েছে, যা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি হয়েছে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ২৭৮ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তির পর, বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে। পাশাপাশি বোয়িং থেকে ২৫টি বেসামরিক উড়োজাহাজ কেনা হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিবছর সাত লাখ টন করে গম আমদানি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও এলএনজি আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে।
বিডি/এএন


































