জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) একটি ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে ‘আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই জাপানে অধিকসংখ্যক কর্মী পাঠাতে সরকারের সক্রিয় আগ্রহের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
রোববারের প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া। এতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
সভায় জানানো হয়, নবগঠিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০টি কার্যক্রম রয়েছে, যেগুলো সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেহেতু বিএনপি দলীয় ইশতেহার জনগণের সমর্থন পেয়েছে, তাই সেটি এখন জাতীয় কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। এই কর্মসূচিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন কীভাবে করা যায়, তা নিয়েই মূলত প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়।
সভায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, জাপানে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ তরুণ কর্মীর প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি রয়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কৌশল নিয়েই বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মূলত অদক্ষ শ্রমিক রফতানি করে আসছে—এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় গুরুত্ব পায়। জাপানে জনসংখ্যার বার্ধক্যজনিত কারণে বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগে ৩৩টি টিটিসিতে জাপানমুখী ট্রেড-রিলেটেড প্রশিক্ষণ চালু ছিল। এখন আরও ২০টি যুক্ত করে মোট ৫৩টি টিটিসিতে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে জাপানি ভাষার প্রশিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এ ঘাটতি কাটাতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া দেশে থাকা প্রায় ২০০ বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিগুলোর সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকরভাবে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
জাপানের শ্রমবাজারে অন্যান্য দেশের আগে অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণের বিষয়েও কয়েকটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ একত্র করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দায়িত্ব বণ্টনও সম্পন্ন হয়েছে এবং দুই কর্মদিবস পর অগ্রগতি পর্যালোচনায় আবার বৈঠক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জাপানে জনশক্তি প্রেরণ ও প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, শিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে শিগগিরই একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবার মতামত নিয়ে একটি চূড়ান্ত সুপারিশমালা প্রণয়ন করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে, যাতে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়।
জাপানে জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে দক্ষতা, আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।




























