নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম আলোচিত ও আকর্ষণীয় অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
সারা দেশের জনগণের জন্য এই কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও প্রাথমিকভাবে উত্তরবঙ্গের দুই জেলা—বগুড়া ও দিনাজপুর—দিয়ে এর যাত্রা শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের আনন্দ বাড়াতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই দুই জেলাকে বেছে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, উৎসবের আগে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে তা ইতিবাচক সাড়া ফেলবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পের আওতায় বগুড়া ও দিনাজপুর জেলার মোট আটটি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে বগুড়ার গাবতলী ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা সুবিধা পেতে পারেন। এই দুই উপজেলায় বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম মূল্যায়ন করে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলায় কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা জরিপকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ না পড়ে এবং সহায়তা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়—সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবার মাসে ২ হাজার টাকা করে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়াও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, উত্তরাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশাবাদী। বিশেষ করে বিধবা, বয়স্ক ব্যক্তি ও নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সুবিধাভোগী তালিকা প্রণয়ন করা হবে।




























