চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের রুখতে সারাদেশে বড় অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
Published : ১৫:০৫, ৪ মার্চ ২০২৬
চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রধারী দাগি আসামিদের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, অভিযান শুরু হবে ঢাকা থেকে, এরপর তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে। চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও চিহ্নিত দাগি আসামিদের একটি নিরপেক্ষ ও যাচাই-বাছাই করা তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেই তালিকার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় আনবে।
জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ যেন এ উদ্যোগে পাশে থাকেন। সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করতে চায় যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি ডিএমপি সদর দপ্তর পরিদর্শনে এসে অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, উপকমিশনার (ডিসি), অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং রাজধানীর ৫০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা শোনেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্রগণ্য।
বিগত সরকারের সময় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। সে সময় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থা পুনর্স্থাপনই এখন প্রধান লক্ষ্য।
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, পুলিশের ঐতিহাসিক ও পেশাদার ভূমিকা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে, যাতে মানুষ পুলিশকে প্রকৃত অর্থেই জনগণের বন্ধু হিসেবে দেখতে পারে। তিনি বলেন, বৈঠকে কর্মকর্তাদের দৃঢ় মনোভাব ও অঙ্গীকার তিনি লক্ষ্য করেছেন। দেশ ও জাতির স্বার্থে তারা প্রয়োজন হলে ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত।
অতীতে যে কলঙ্ক প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত হয়েছিল, তার জন্য পুরো প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়; বরং একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সেই দায় প্রতিষ্ঠানের ওপর এসে পড়ে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশকে দায়ী করা সমীচীন নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিডি/এএন





























