নির্বাচকদের কাঠগড়ায় তুললেন আমির: জরিমানার দাবি
Published : ১৫:৪৯, ৪ মার্চ ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে—এমন খবর প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম।
তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে খেলোয়াড়দের বদলে নির্বাচক ও প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতার কারণে প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ রুপি করে জরিমানা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। যদিও এ বিষয়ে এখনো বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরাজয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাকিস্তান। নেট রান রেটের হিসাবে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের ছিটকে যেতে হয়। এই ব্যর্থতার প্রেক্ষিতেই জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মোহাম্মদ আমির বলেন, যদি জরিমানাই সব সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে তা কেবল খেলোয়াড়দের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। নির্বাচক থেকে শুরু করে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদেরও একইভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
তার ভাষায়, খেলোয়াড়দের তো জোর করে মাঠে নামানো হয়নি; ভুল দলগঠন বা কম্বিনেশনের দায় নির্বাচকদেরও নিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের জরিমানা আরও বেশি হওয়া উচিত। সব সময় ক্রিকেটারদের বলির পাঁঠা বানানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আমির আরও প্রশ্ন তোলেন, যারা পুরো টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি, তাদেরও কি সমানভাবে শাস্তি দেওয়া হবে? উদাহরণ হিসেবে তিনি ফখর জামান ও সাহিবজাদা ফারহানের নাম উল্লেখ করে বলেন, সঠিক দল নির্বাচন না হলে তার দায় শুধু মাঠে নামা খেলোয়াড়দের ওপর চাপানো ন্যায্য নয়।
জরিমানার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই পেসার। তার মতে, অর্থদণ্ড কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন, কারণ সেখান থেকেই ভবিষ্যতের মানসম্পন্ন ক্রিকেটার তৈরি হয়।
কারও পারফরম্যান্সে অসন্তোষ থাকলে তাকে জরিমানা না করে দল থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে। এরপর তাকে অন্তত দুই বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার সুযোগ দিতে হবে। আমিরের মতে, জাতীয় দল থেকে বাদ পড়াই একজন খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমিরের এই বক্তব্য তা আরও তীব্র করেছে। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা দেয় কি না।
বিডি/এএন

































