আজ রাতে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে় বাংলাদেশ থেকে

আজ রাতে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে় বাংলাদেশ থেকে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:৫৩, ৩ মার্চ ২০২৬

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতের আকাশে দেখা মিলবে এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা—এ বছরের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণের সময় চাঁদ তামাটে-লাল আভা ধারণ করবে, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত।

এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আবার দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ দিকে পর্যন্ত।

গ্রহণের সময়সূচি (বাংলাদেশ সময়)
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ আরম্ভ হবে। বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে কেন্দ্রীয় গ্রহণ সংঘটিত হবে এবং গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫।

রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়া অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসার মধ্য দিয়ে গ্রহণের সমাপ্তি ঘটবে। বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর গ্রহণের শেষাংশ রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত দেখা সম্ভব হবে।

বিভাগীয় শহরভিত্তিক চন্দ্রোদয়ের সময়
ঢাকা: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ১২ সেকেন্ড
চট্টগ্রাম: বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড
সিলেট: বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
রাজশাহী: সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড
খুলনা: সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড
বরিশাল: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড
ময়মনসিংহ: সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড
রংপুর: সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে। এর ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে প্রতিসরিত সূর্যালোর একটি অংশ চাঁদের ওপর এসে পড়ে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি বিচ্ছুরিত করে, আর লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো তুলনামূলকভাবে কম বাধাপ্রাপ্ত হয়ে চাঁদের দিকে পৌঁছে যায়। এ কারণেই গ্রহণ চলাকালে চাঁদ তামাটে বা লালচে আভায় দেখা দেয়। একই বৈজ্ঞানিক কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লালচে দেখায়।

এবারের গ্রহণের কেন্দ্রীয় গতিপথ থাকবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ-পশ্চিমে। পাশাপাশি কিমম্যান রিফ জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হুল্যান্ড দ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, ফিলিপাইন সাগর সংলগ্ন মাইক্রোনেশিয়ার কোসরাই দ্বীপ এবং লুগাও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকেও এটি স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খালি চোখেই এই বিরল ‘ব্লাড মুন’ উপভোগ করা সম্ভব হবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement