সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Published : ১৩:২৯, ১৫ মার্চ ২০২৬
দেশের প্রচলিত সংবিধানের আলোকে বর্তমানে ‘সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কাঠামোর অস্তিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সাংবিধানিক ব্যবস্থায় এ ধরনের কোনো পরিষদের স্বীকৃতি নেই।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণের আগে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, কিন্তু কোনো ‘সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন ডাকেননি। তাই বর্তমানে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই সংসদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া হচ্ছে, অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে নয়।
সংসদে যোগ দেওয়ার আগে তিনি গত জুলাই মাসে আলোচিত ‘জাতীয় সনদ’-এর বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তার মতে, ওই সনদের আওতায় যে ‘সংস্কার পরিষদ’-এর কথা বলা হচ্ছে, সেটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েই ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি দেশের উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই পরিষদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। যেহেতু বিষয়টি এখন বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে নতুন করে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিস্থিতিতে কোনো পরিষদ গঠনের আলোচনা উঠতে পারে। তবে সেটি যদি দেশের আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তাহলে তার কোনো রাষ্ট্রীয় কার্যকারিতা থাকে না।
সংস্কার পরিষদ গঠনের আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি গণভোট বা জনমতের ভিত্তিতে নতুন কোনো পরিষদ বা কাঠামো তৈরি করতে হয়, তাহলে তার জন্য সংবিধানসম্মত নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধানে যুক্ত করা সম্ভব। অন্যথায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো পরিষদ গঠন করা হলে সেটি অসাংবিধানিক হিসেবেই বিবেচিত হবে।
বিডি/এএন




























