আলি শামখানিকে চোখের জলে বিদায় জানালেন ইরানিরা
Published : ১২:৩৫, ১৫ মার্চ ২০২৬
ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলী শামখানিকে শেষ বিদায় জানাতে শোকস্তব্ধ হয়ে ওঠে পুরো দেশ। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানী তেহরানে গভীর শোক ও আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে উত্তর তেহরানের ইমামজাদে সালেহ মাজার চত্বরে হাজারো মানুষের ঢল নামে। অশ্রুসিক্ত চোখে তাকে বিদায় জানান সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক।
জানাজার নামাজে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অঙ্গনের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ইমামজাদে সালেহ মাজার প্রাঙ্গণেই তাকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় সেখানে উপস্থিত হাজারো মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
৭০ বছর বয়সী আলী শামখানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একজন অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান কমান্ডার ছিলেন। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তাকে প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
শামখানি শুধু সামরিক নেতৃত্বেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; আঞ্চলিক কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দীর্ঘদিনের সচিব হিসেবে দেশটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত নীতিনির্ধারণে তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে পরিচালিত মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান অভিযানের পর ইরানের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। সেই রক্তক্ষয়ী হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পাশাপাশি নিহত হন তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও সহযোদ্ধা আলী শামখানিও।
বিডি/এএন































