রামেক পরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, ফাঁসি চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Published : ১৯:১১, ২৮ মার্চ ২০২৬
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভেন্টিলেটরের সংকটের কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জানিয়েছেন, গত ১১ দিনে রামেকে ৩৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অথচ হাসপাতালের পরিচালক তাকে ভেন্টিলেটর সংকটের বিষয়টি অবহিত করেননি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, এমন দায়িত্বহীনতার জন্য তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসা নৈতিকতা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, তিনি ফোন করলে পরিচালক দাবি করেছিলেন যে গণমাধ্যম বিষয়টি বাড়িয়ে বলছে। কিন্তু পরদিন প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, সংবাদমাধ্যমের তথ্যই সঠিক ছিল এবং তখন আর তিনি তা অস্বীকার করতে পারেননি।
সরকারি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সময়ক্ষেপণের কারণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থায় দ্রুত কেনা সম্ভব নয় বলে নিজের যোগাযোগ ব্যবহার করে কয়েকজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে তিনটি ভেন্টিলেটর কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা সরকারি অর্থে নয় বরং বেসরকারি উদ্যোগে হচ্ছে। এছাড়া আরও দুটি ভেন্টিলেটর জোগাড়ের চেষ্টা চলছে।
চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর অগাধ আস্থা রাখে, প্রায় ঈশ্বরতুল্য বিশ্বাস করে। তাই তাদের আচরণ, কথাবার্তা ও সেবার মান আরও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্রায়ই সংবাদপত্রে দেখা যায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীরের ভেতরে সুতা বা অন্য কিছু থেকে যায়, যা পরবর্তীতে রোগীর জন্য কষ্টের কারণ হয়। এসব ভুল সাধারণত তখনই ঘটে, যখন চিকিৎসকেরা অতিরিক্ত ক্লান্ত বা অত্যধিক ব্যস্ত থাকেন। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ঢাকার উত্তরের একটি এলাকায় কর্মরত এক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট, যিনি দেখতে সুদর্শন এবং সেনাবাহিনীর পটভূমি রয়েছে, তিনি নারী রোগীদের চিকিৎসার বদলে ব্যক্তিগত আলাপ, গান ইত্যাদিতে সময় ব্যয় করতেন—যা সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা নৈতিকতার পরিপন্থী।
নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে পুলিশের হামলায় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। তখন দেশের অনেক চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও তিনি ভারতে গিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কেবল অর্থোপেডিক জুতা ব্যবহার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
চিকিৎসকদের নিয়মিত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিনিয়ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে শিখতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে নিয়মিত মেডিকেল জার্নাল পড়া প্রয়োজন।
বিডি/এএন






























