পদ্মার বাস দুর্ঘটনায় থামল রানা প্লাজার সেই নাসিমার জীবন
Published : ১০:৫৮, ২৮ মার্চ ২০২৬
২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাসিন্দা নাসিমা বেগম (৪০)। তবে মৃত্যুর সেই মুখ থেকে ফিরে আসা নারীটির জীবনের লড়াই শেষ পর্যন্ত থেমে গেল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে সংঘটিত এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ঢাকায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্যদের পাশাপাশি নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজনের প্রাণহানি ঘটে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে নাসিমা তার ভাগনি, ভাগনির স্বামী এবং একটি শিশুকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসে যাত্রা করেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছানোর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নাসিমা বেগমের জীবন ছিল সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসের সময় তিনি ওই ভবনে কর্মরত ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থাকার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনার পর কিছুদিন গ্রামে কাটালেও স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা।
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি সত্য এবং নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বিডি/এএন































