প্রতিশ্রুতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি কাজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি: সাদিক কায়েম

প্রতিশ্রুতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি কাজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি: সাদিক কায়েম ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২২:২৮, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রতিশ্রুতির চেয়েও পাঁচগুণ বেশি কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ইনশাআল্লাহ এই প্রতিশ্রুতিগুলো সাফল্যের সঙ্গে পূরণ হবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে ডাকসু এবং আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এমওইউ সাইনিং ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ভিপি সাদিক কায়েম উল্লেখ করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০৪ বছর বয়সী হলেও, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের বৈষম্য এখনো বিদ্যমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৩ শতাংশ নারী হলেও, তাদের জন্য মাত্র পাঁচটি হল রয়েছে। এটি অর্থের অভাবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ঘাটতির ফল। তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী শাসনামলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করা হয়েছে।

আবাসন সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেভাবেই হোক, প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগ করে হলেও ক্যাম্পাসের আবাসন সমস্যা সমাধান করা হবে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর হলে সিট না পাওয়ায় যে দুর্ভোগের শিকার হন, তা আর চলবে না। এছাড়া অনেক ছেলে শিক্ষার্থীও বড় স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন, তবে হলে সিট না পাওয়ায় হতাশা পেয়ে থাকেন। এই বাস্তবতা বদলানোই তাদের লক্ষ্য।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একাধিক প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই পাঁচটি নতুন হল নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে চীনের অর্থায়নে নির্মিত একটি নারী হলের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাকি হলগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কাজও দ্রুত শুরু হবে। মোট প্রায় ২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

নারী অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে মানবাধিকার ও সমতার কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে তা অনেক সময় লঙ্ঘিত হয়। এই বৈষম্য আর চলবে না। নারী ও পুরুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইনশাআল্লাহ, তারা তাদের বোনদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।

ভিপি আরও জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদটি ১৯৬৫ সালে নির্মিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন সংস্কারের সুযোগ পায়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ডোনারের সহায়তায় মসজিদ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, এটি আপাতত জরুরি সংস্কার হলেও ভবিষ্যতে মসজিদটিকে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স সেন্টারে রূপান্তরিত করা হবে, যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক জায়গা বরাদ্দ থাকবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement