কিছু ভুয়া খবর দেখলাম: তাহসান

কিছু ভুয়া খবর দেখলাম: তাহসান ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২০:০৫, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

উত্তরের বাতাস ও কুশায়ায় বাহে জার (শীত) সয়া যায় না। গাও (শরীর) খালি কাঁপতেছে। বাড়ীর ছ্যায়াগুলোর যে কষ্ট তা বলা ভাষা নেই। কয়দিন হলো যে ঠান্ড পড়ছে। এমন ভাবে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বৃদ্ধ আকবর আলী।

গত কয়েক দিন ধরে রংপুর বিভাগের আট জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আজ ১১ জানুয়ারি রবিবার রংপুর বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গাইবান্ধা, রংপুরসহ সাত জেলায় ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এসেছে তাপমাত্রা। সূর্যের মুখ দেখা গেলেও রোদের কোনও তাপ নেই। ৩/৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হচ্ছে না সূর্যের আলো। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, সর্দিজ্বর, কোল্ড ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগবালাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতালের সর্দার অফিসের কর্মী মমতাজ উদ্দিন বলেন,গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ জন বয়স্ক নারী-পুরুষ ও চার জন শিশুসহ নয় জন শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৭, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১০, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০, দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৮, রংপুরে ১০ দশমিক ২, নীলফামারীর ডিমলায় ১০, ঠাকুরগাঁয়ে ৯ দশমিক ৫, লালমনিরহাটে ১০ ও গাইবান্ধায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যের মুখ দেখা গেলেও তা স্থায়ী থাকছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।

বেশির ভাগ জেলায় মধ্যরাত থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। ফলে সারাদিনেই রংপুর বিভাগে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে সহায়-সম্বলহীন মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে সহায়-সম্বলহীন মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ভাইরাস জ্বর, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া সর্দিজ্বর, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগবালাই বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন শত শত শিশু শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছে।

হাসপাতালের আউটডোরে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে স্বজনরা ভিড় করছে। ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর মৃদু শৈত্যপ্রবাহে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চল। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। ভোর ও রাতের প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় খেটে খাওয়া মানুষের কাজের সুযোগ কমে গেছে, কমেছে দৈনিক আয়ও।

হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর নগরীর শীতবস্ত্রের বাজারগুলোতে ক্রেতার ভিড় চোখে পড়ার মতো। স্টেশন বাজার, জামাল মার্কেট, ছালেক মার্কেট, হনুমানতলা, হকার্স মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতান ও ফুটপাতজুড়ে নতুন ও পুরনো শীতবস্ত্রের জমজমাট বেচাকেনা চলছে।

নিম্ন আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী দামে শীতের পোশাক ক্রয় করতে ভিড় করছেন পুরনো কাপড়ের দোকান ও অস্থায় দোকানগুলোতে। জাহাজ কম্পানি মোড়, সেন্ট্রাল রোড, পায়রাচত্ত্বর ও টার্মিনাল এলাকার ফুটপাতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে। ভ্যান চালক শাহিদুল ইসলাম বলেন, দিনে যা আয় হয়, তাতে ঠিকমতো খাবার জোটানোই কষ্ট হচ্ছে। শীতের কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। পুরনো একটা জ্যাকেট কিনেছি, সেটাই ভরসা। 

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement