ইরানে সংঘর্ষে শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহতের দাবি

ইরানে সংঘর্ষে শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহতের দাবি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:০৫, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির চাপে দগ্ধ ইরান। টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন ক্রমেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১০৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

ইসফাহান ও কেরমানশাহ প্রদেশের প্রধান সড়কগুলো কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে; সেখানে পুলিশের ওপর বারবার অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে হামলার মধ্য দিয়ে। গোলেস্তান প্রদেশে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি ত্রাণ ভবনে হামলার সময় এক মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন। একই সঙ্গে পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করছে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে, তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই অস্থিরতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানানো এবং প্রয়োজনে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তেহরান আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে।

রোববার পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সরাসরি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে বা সামরিক হামলার চেষ্টা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য এটি ইরানের সবচেয়ে বড় সংকট। জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের, আর এর বিপরীতে কঠোর দমন-পীড়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একদিকে রাজপথে জনক্ষোভ, অন্যদিকে পরাশক্তিদের সামরিক হুমকি—সব মিলিয়ে ইরান এখন ভয়ংকর এক অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement