নির্বাচনে জিতলে একক সরকার গঠন করবে বিএনপি: তারেক রহমান
Published : ১২:৩৯, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একেবারে প্রাক্কালে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিতভাবে কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করবে। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন এবং একই সময়ে নির্বাচনি ব্যস্ততার মধ্যে মাতৃবিয়োগের গভীর শোক—এই দুই বাস্তবতাকে একসঙ্গে সামাল দেওয়াই তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি আশাবাদী যে এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং জনগণ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
তিনি মনে করেন, একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে শক্তিশালী সরকার যেমন প্রয়োজন, তেমনি কার্যকর বিরোধী দলও অপরিহার্য। সে কারণেই সবাই মিলে সরকার গঠনের পরিবর্তে এককভাবে সরকার পরিচালনা এবং সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি বলে তিনি মত দেন।
৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রাজনীতিতে জনগণ যাকে গ্রহণ করে না, শক্তির জোরে তাকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এই সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গৃহিণীদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথা জানান তিনি, যার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, তরুণ ও প্রবীণসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য নির্বাচনি ইশতেহারে নির্দিষ্ট কর্মসূচি রাখা হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।
পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, তিনি মূলত বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। যদি কোনো চুক্তি বা সমঝোতা দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তবে স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে। ভবিষ্যৎ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা।
গত দেড় দশকে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি সভ্য রাষ্ট্রে মানুষ গুম হয়ে যাবে অথচ তার বিচার হবে না—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। তিনি আশ্বাস দেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা গুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
দলের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি ও ব্যবসায়িক প্রতিকূলতার কারণে ডিফল্ট হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তার দাবি, বিগত স্বৈরাচারী সরকার বিএনপির ব্যবসায়ী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানি চালিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ন্যায্য ব্যাংক ঋণ থেকেও বঞ্চিত করেছে।
ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে ডিফল্ট হয়েছেন, যা কোনোভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে তুলনীয় নয়। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমনে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বিডি/এএন



























