আজকের নির্বাচনে জুলাই বিপ্লবের পরিবর্তন দেখা যাবে: শফিকুর রহমান
Published : ১৮:৫৩, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ বারবার নির্বাচনের মুখোমুখি হলেও প্রকৃত অর্থে কখনোই ভোটাধিকার পুরোপুরি ভোগ করতে পারেনি।
দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তার বাস্তব প্রতিফলন আজকের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেখা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা–১৫ আসনের নির্বাচনি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলন ও গত সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যারা সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং জীবন দিয়ে জাতিকে নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন, তিনি সর্বপ্রথম সেই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আল্লাহতাআলা যেন তাদের শহীদী মর্যাদা দান করেন—এ প্রার্থনাও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং আহতদের জন্য দোয়া করেন। মহান আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে জান্নাতের নেয়ামত দান করেন—এমন কামনাও ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।
শহীদ ও আহতদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের ফলেই আজকের বাংলাদেশ। তারা যদি সেদিন জীবন না দিতেন কিংবা আহত না হতেন, তাহলে আজ ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতো না।
মহান স্রষ্টার ইচ্ছাতেই পৃথিবীর সব কিছু পরিচালিত হয়—আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি যে ২০২৪ সালে এমন এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটবে, অথচ সেটাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে যখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তখন তার মতো দলের শীর্ষ নেতারা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তিনি নিজেও জেলে ছিলেন।
মাত্র ছয় বা সাত মাস আগেও কেউ ভাবতে পারেনি যে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।
জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি এই জুলাইকে চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। যারা এই আত্মত্যাগকে সম্মান করবে না, তারা অকৃতজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আল্লাহতাআলা জাতিকে এক ভয়াবহ সংকট থেকে মুক্ত করেছেন, আর সেই বীর সন্তানদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, চলমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের নীতি ও ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে দেশ পরিচালনা নিয়ে তাদের পরিকল্পনাও ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিডি/এএন



























