সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রিকেট মাঠেও প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর ওপর।
প্রায় প্রতিটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের ভেন্যু নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিকল্প ভাবনায় এগোতে বাধ্য হচ্ছে আইসিসি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী সংবাদপত্র The Age এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে আইসিসি। চলমান পরিস্থিতির জটিলতা এবং দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া-রাজনৈতিক টানাপোড়েনই এ ভাবনার পেছনে মূল কারণ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। এরপর ২০২৭ সাল পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ, যেখানে বহুদেশীয় টুর্নামেন্টে একে অপরের দেশে গিয়ে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৭ সালের পরেও এই ব্যবস্থা বহাল থাকতে পারে।
এই কারণে ভারতকে আয়োজক তালিকা থেকে সরানোর চিন্তা করছে আইসিসি। প্রধান সমস্যা হচ্ছে যাতায়াত ও লজিস্টিক জটিলতা। কেবল ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের জন্য দলগুলোকে অতিরিক্ত ভ্রমণ করতে হচ্ছে, নতুন করে হোটেল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করতে হচ্ছে। ফলে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি সত্যিই ভারত থেকে এই দুটি বড় টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে আয়োজক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি এর আগে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করেছে, যা তাদের পক্ষে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে ভারতীয় দলকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে যেতে হয়েছিল। একইভাবে এশিয়া কাপেও পাকিস্তান নিজেদের দেশে টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ ম্যাচ খেললেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য কলম্বোতেই যেতে হয়েছিল। ফলে নিরপেক্ষ ভেন্যু ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
এই জটিলতায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ-ও। তারাও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, কিন্তু সেই দাবি আইসিসি নাকচ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণই হচ্ছে না।
আইসিসি এমন পরিস্থিতি আর দীর্ঘায়িত করতে চায় না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তাই ভারতে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্ট আয়োজন থেকে সরে আসার বিষয়ে তারা নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকছে বলে আলোচনা রয়েছে।
তবে বাস্তবতা হলো, ভারতে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে আইসিসির আর্থিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, চাইলেও আইসিসির পক্ষে ভারত থেকে সব প্রতিযোগিতা সরিয়ে নেওয়া সহজ হবে না।

































