ফরিদপুরের মধুখালীতে স্ত্রী মীরা আক্তার (৩০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী মোস্তফা কামালকে (৪২) প্রায় ১৩ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা সদরের আনসার রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই তথ্য র্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তাপস কর্মকার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি মীরা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তার স্বামী মোস্তফা কামাল পালিয়ে যান। মোস্তফা ফরিদপুর সদর উপজেলার উজান মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালে মীরা বাসে করে ফরিদপুর শহর থেকে মধুখালী উপজেলার কামারখালীতে নিজের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ওই বাসে তার পাশের সিটে বসা যাত্রী মোস্তফা কামালের সঙ্গে পরিচয় হয়, এরপর তাদের মধ্যে গোপনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করেন।
তবে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে মীরা সিদ্ধান্ত নেন, স্বামীকে না জানিয়ে নিজ বাড়িতে যাবেন। ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মীরা যখন রওনা হন, মোস্তফা তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যান এবং মজিদ মোল্লার সহায়তায় হত্যা করা হয়।
মধুখালী থানার পুলিশ ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা মরদেহ হিসেবে মীরার মৃতদেহ উদ্ধার করে। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্ত শেষে মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল হক ২০১৮ সালের ৩১ মে মোস্তফা কামাল ও মজিদ মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মোস্তফা কামাল ও তার সহযোগী মজিদ মোল্লাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা না দিলে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১০ ও র্যাব-১-এর যৌথ দল মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তার করে।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাইজুর রহমান জানিয়েছেন, র্যাব আসামিকে আজ সকালে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।
































