মোংলা বন্দরে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা নৌমন্ত্রীর

মোংলা বন্দরে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা নৌমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০০:১২, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দ্রুত সময়ের মধ্যেই মোংলা-খুলনা রেলপথে একাধিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

একই সঙ্গে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে মোংলা বন্দর–এর ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রথমবারের মতো মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মোংলা নদীর ওপর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি নতুন রেল কোচ ও ইঞ্জিন সংযোজনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মোংলা-খুলনা রুটে একাধিক ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও বেশি করে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মোংলা বন্দরও চট্টগ্রাম বন্দর–এর মতো দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর সমুদ্রবন্দরে পরিণত হতে পারবে।

তিনি আরও জানান, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনায় মোংলা বন্দরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বন্দরের কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উন্নয়ন কার্যক্রমে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের শতভাগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এটিকে একটি আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও সক্ষম বন্দরে রূপান্তর করা হবে।

প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সঙ্গে মোংলা বন্দর উন্নয়নসংক্রান্ত বাতিল বা স্থগিত চুক্তি পুনরায় চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেসব চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে। যেসব চুক্তিতে দেশের সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো পুনরায় কার্যকর করার আগে গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে এ বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে, যা এ অঞ্চলের কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এর আগে তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শাহীন রহমান।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement