দোকানে হামলা, স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেপ্তার

দোকানে হামলা, স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেপ্তার ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০৩:৫৯, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের একটি আচারের দোকানে হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্য মো. মাকসুদ আকনকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত একটি আচারের দোকানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন সদস্য হামলা চালায়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পরে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক মো. মনিরুল হাওলাদার তিনজনকে আসামি করে মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর একইদিন সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. মাকসুদ আকনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক মো. আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, মনিরুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘তানিসা আচার ঘর’ নামের দোকানে মো. হাসান নামের এক যুবক ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে মো. মাকসুদ আকনসহ আরও তিন-চারজন দোকানে প্রবেশ করে ম্যানেজার হাসানকে বাইরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা হাসানকে মারধর করে এবং দোকানের বিভিন্ন আসবাব ও পণ্য ভাঙচুর করে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ভাঙচুরের সময় দোকান থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।

দোকান মালিক মনিরুল ইসলাম বলেন, “মাকসুদ আমার দোকানে লুটপাট চালিয়েছে। সে চাঁদাবাজির মতো আচরণ করে দোকানে এসে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। তার দাবি, সে নাকি কারও কাছ থেকে টাকা দিয়ে এই দোকান ভাড়া নিয়েছে। আমাকে দোকান ছেড়ে দিতে বলে, না হলে টাকা পরিশোধ করতে বলে। এই হামলা ও ভাঙচুরে আমার প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “আমি বহু আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বারেক মোল্লার কাছ থেকে দোকানটি ভাড়া নিয়েছি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি এলাকায় না থাকায় কিছু স্থানীয় বিএনপি সমর্থক দোকানের জমি নিজেদের বলে দাবি করছেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীনও কখনো এ জমি নিয়ে এমন দাবি শোনা যায়নি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে তারা মালিকানা দাবি করছে। তাদের একজনের কাছ থেকেই নাকি টাকা দিয়ে চুক্তিপত্র নিয়েছে মাকসুদ। এ কারণেই সে আমাকে বারবার দোকান ছাড়তে চাপ দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধের জের ধরেই আজকের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।”

প্রধান অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তবে অভিযুক্তের চাচাতো ভাই মামুন আকন বলেন, “দোকানের জমি নিয়ে আমার চাচাতো ভাই মাকসুদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সে বিভিন্ন জায়গা থেকে কিস্তিতে টাকা জোগাড় করে জমির চুক্তির জন্য বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সে সেই টাকা পরিশোধ করছিল। কিন্তু চুক্তিপত্র নেওয়ার পরও মালিকানা না পাওয়ায় সে ক্ষুব্ধ ছিল। সে চাঁদা দাবি করেনি, শুধু দোকান ছাড়তে বলেছিল। এখন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের পরিবারে আগে কখনো কেউ কোনো অপরাধে থানায় যায়নি। আমরা এই ঘটনার আইনি সমাধান চাই।”

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement