তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ায় সাগর-রুনি মামলার কর্মকর্তাকে শোকজ

তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ায় সাগর-রুনি মামলার কর্মকর্তাকে শোকজ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:৫৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে এবার শোকজ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন করে আগামী ১ এপ্রিল পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। এর ফলে বহুল আলোচিত এই সাংবাদিক দম্পতির হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা মোট ১২৪ বার পিছিয়ে গেল।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে রাজধানীতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রথমদিকে মামলাটির তদন্ত দায়িত্বে ছিলেন সংশ্লিষ্ট থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি দুই মাসের বেশি সময় ধরে তদন্ত চালিয়েও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র‌্যাবের কাছে ন্যস্ত করা হয়।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে গতি আনতে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গড়ে তোলা হয়।

এই আলোচিত মামলার আসামিরা হলেন—রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের বন্ধু তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর রহমান খান বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক হয়েছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে আটক আছেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement