ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) মামলাটির অভিযোগপত্র পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে বাদিপক্ষ সময়ের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন এবং নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এই হত্যা মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন সিনিয়র আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
এর আগে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম মামলার তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে মোট ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), আলমগীর হোসেন (২৬), তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী (৪৩), ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১), জেসমিন আক্তার (৪২), হুমায়ুন কবির (৭০), হাসি বেগম (৬০), সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), মারিয়া আক্তার লিমা (২১), কবির (৩৩), নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), সিবিয়ন দিও (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) এবং ফয়সাল (২৫)।
ডিবি প্রধান আরও জানান, মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির আলামত, পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এসব তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুইজনসহ মোট ছয়জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় প্রথমে ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।


































