জামায়াতের আমিরের সমবেদনা তারেক রহমানকে

জামায়াতের আমিরের সমবেদনা তারেক রহমানকে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:১৫, ১ জানুয়ারি ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যক্তিগতভাবে শোক প্রকাশ করেন এবং কার্যালয়ে রাখা শোকবইয়ে স্বাক্ষরও করেন।

সাক্ষাতের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোবারক হোসেন, সাইফুল আলম খান মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, ইতিহাসে বিরল সম্মানের অধিকারী হয়ে খালেদা জিয়া চলে গেছেন। তার বিদায়ের সংবর্ধনা জনগণ আবেগ এবং চোখের পানি দিয়ে প্রদান করেছে, যা তার প্রাপ্য ছিল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জাতির জন্য যে অবদান রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এই অবদান আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমরা যদি জাতির কল্যাণে এমন অবদান রাখতে পারি, মানুষ হয়তো আমাদের প্রতিও এমন সম্মান প্রদর্শন করবে।

ডা. শফিকুর আরও বলেন, দেশ বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মুখোমুখি। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে যেমন দেশের স্বার্থে একসাথে কাজ করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য সকলেই মিলেমিশে দায়িত্বশীলভাবে চিন্তাভাবনা করতে পারি কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগে আমরা খোলা মনে বসে জাতির স্বার্থে আলোচনা করব এবং সিদ্ধান্ত নেব। খালেদা জিয়া যে ঐক্যের ভিত্তি তৈরি করেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় আমাদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এর আগে, বুধবার বিকেল তিনটায় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিরা এবং লাখ লাখ মানুষ। জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ বিশেষ বাহনে করে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবরস্থ করা হয়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে খালেদা জিয়া নির্যাতনের শিকার হন, কারাভোগ করেন এবং চিকিৎসার সুযোগ পাননি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলে তিনি গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসায় অবস্থান করেন। চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতা দেখা দেয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়, যা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে যান শেখ হাসিনা। পরের দিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান। লন্ডনে ১১৭ দিন অবস্থান শেষে ৬ মে দেশে ফেরেন, কিন্তু নানা রোগে জটিলতা এবং শরীর ও মনের ধকলের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ২৩ নভেম্বর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement