শেষ ওভারে নাটকীয়তার চূড়ান্ত রূপ নেয় ম্যাচটি। তখন রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭ রান, শেষ বলে দরকার মাত্র ১। স্ট্রাইকে নতুন ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
রিপন মণ্ডলের বল তিনি মিডঅনের দিকে ঠেলে এক রান নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে যান। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ম্যাচ গড়ায় সমতায়।
এরপর ফল নির্ধারণ হয় সুপার ওভারে। সেখানে তানজিদ তামিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে জয় তুলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৮ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৫৯ রান। জবাবে রংপুর রাইডার্সও ৬ উইকেট হারিয়ে ঠিক ১৫৯ রানেই থেমে যায়।
সুপার ওভারে রংপুরের হয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন কাইল মায়ার্স ও তাওহিদ হৃদয়। বল হাতে ছিলেন রিপন মণ্ডল। মায়ার্স এক রান করে বোল্ড হয়ে যান। এরপর খুশদিল শাহ ক্রিজে এলেও কেউই বাউন্ডারি মারতে পারেননি। ফলে ২ উইকেটে মাত্র ৬ রান তুলতে সক্ষম হয় রংপুর।
রাজশাহীর সুপার ওভারে ওপেনিংয়ে নামেন সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ তামিম। বোলিংয়ে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান তানজিদ, পরের বলে নেন দুই রান, তৃতীয় বলেই আবারও চার। তিন বলেই ম্যাচ শেষ করে রাজশাহীর জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় রংপুর শুরুতেই লিটন দাসকে (১১ বলে ১৬) হারালেও ডেভিড মালান ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ৭২ বলে ১০০ রানের জুটি জয়কে হাতের নাগালে এনে দেয়।
হৃদয় ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এবং ৩৯ বলে ৭টি বাউন্ডারিতে ৫৩ রান করে আউট হন। এরপর কাইল মায়ার্স (৮ বলে ৯), খুশদিল শাহ (৭ বলে ৭) ও নুরুল হাসান সোহান (৪ বলে ৬) দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচে আবার উত্তেজনা বাড়ে। তবে মালান শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ৬৩ রান করেন।
এর আগে রাজশাহীর ইনিংসে বিপিএলে ফর্মে ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তার জুটিতে ভর করেই ৮ উইকেটে ১৫৯ রানের পুঁজি পায় দলটি।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমকে (২) হারায়। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ফারহান ও শান্ত ৬৩ বলে গড়েন ৯৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। শান্ত ৩০ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪১ রান করে রানআউট হন। ফারহান করেন ৪৬ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৫ রান—বিপিএলে এটি তার প্রথম ফিফটি।
শেষদিকে ব্যাটাররা বড় অবদান রাখতে না পারলেও তানজিম হাসান সাকিব ৪ বলে ১ ছক্কায় ৮ রান যোগ করেন। রংপুরের বোলারদের মধ্যে ফাহিম আশরাফ ৪৩ রানে নেন ৩ উইকেট, আলিস আল ইসলাম ১৬ রানে পান ২ উইকেট এবং মোস্তাফিজুর রহমান নেন ১টি উইকেট।


































