ভেনেজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে দেশটির ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে নতুন ঘোষণা দিয়েছে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা বিনামূল্যে এই ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটিতে অনলাইন সেন্সরশিপ, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।
বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংক জানিয়েছে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলায় বিনা মূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উল্লেখ্য, স্টারলিংক পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, যা পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা উপগ্রহের মাধ্যমে মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবা দিয়ে থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে স্টারলিংক জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ‘নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ’ নিশ্চিত রাখাই তাদের লক্ষ্য। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই অনলাইন সেন্সরশিপের অভিযোগ রয়েছে। মাদুরো সরকারের সময়ে একাধিকবার ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাজধানী কারাকাসের কয়েকটি এলাকায় হঠাৎ করেই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে আরও জানানো হয়েছে, রাজধানীর কিছু অংশে এখনও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এর আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় ‘বড় ধরনের সামরিক হামলা’ চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস ইও জিমায় তোলা হয় এবং সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কে স্থানান্তর করা হয়। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল না হওয়া পর্যন্ত দেশটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন হলে আমরা দেশটি পরিচালনা করব।’ মাদুরোকে আটক করার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফায় আরও বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রাখছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম শুরু করবে। তার ভাষায়, এসব কোম্পানি দেশটির ভেঙে পড়া অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা করবে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার সম্পদ ব্যবহার করে দেশটির জন্য আয় নিশ্চিত করা হবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে।’


































