ভারতে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় টানা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন অ্যাক্টিভিস্ট উমর খালিদ।
সম্প্রতি তাকে উদ্দেশ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির একটি চিঠি পাঠানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রক্রিয়ার প্রতি জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। মামদানিকে উদ্দেশ করে দেওয়া এই মন্তব্যে ভারতের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিচারিক বিষয়ে মন্তব্য করা দায়িত্বশীল পদে থাকা জনপ্রতিনিধিদের জন্য সমীচীন নয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি পুলিশ উমর খালিদকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন অবৈধ কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএর আওতায় মামলা করা হয়। এই মামলা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত সহিংস ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ওই সময় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘিরে সমর্থক ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলাটির বিচারকার্য শুরু হয়নি।
সম্প্রতি ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রে উমর খালিদের মা–বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতের সময় তিনি একটি হাতে লেখা নোট দেন, যা পরে তারা কারাগারে থাকা উমর খালিদের কাছে পৌঁছে দেন। ওই নোটে উমর খালিদের প্রতি নিজের সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন মামদানি।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আমরা আশা করি, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি জনপ্রতিনিধিরা যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবেন।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত বা পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দেওয়াই তাদের জন্য অধিক শোভনীয়।































