ইফতারে ভুলেও খাবেন না এই ৩টি খাবার

ইফতারে ভুলেও খাবেন না এই ৩টি খাবার ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২২:৩৮, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজান চলছে। মুসলমানদের কাছে এই মাস শুধু উপবাস পালনের সময় নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, সংযম চর্চা এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মহামূল্যবান সুযোগ।

রমজানে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারের সময় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুধা বেশি অনুভূত হয়। সারাদিন খালি পেটে থাকার কারণে তখন অনেকেই দ্রুত ও বেশি খাবার খেতে চান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিক এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন।

পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার খালি পেটে খেলে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাসিডিটি, পেটব্যথা, গ্যাস্ট্রিক কিংবা বুকে জ্বালাপোড়া শুরু হতে পারে। তাই ইফতারের খাবার নির্বাচন করার সময় সতর্কতা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক—কোন খাবারগুলো খালি পেটে এড়িয়ে চলা ভালো।

সাইট্রাস ফল ও ঠান্ডা শরবত

ইফতারে ফল খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে খালি পেটে সাইট্রাস জাতীয় ফল—যেমন কমলালেবু বা মুসুম্বি—খেলে পেটে অস্বস্তি বাড়তে পারে। এসব ফলে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড পেটে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, ফলে অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া এতে থাকা ফ্রুক্টোজ হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।

একইভাবে এসব ফল দিয়ে তৈরি ঠান্ডা জুস বা শরবতও এড়িয়ে চলা উচিত। খুব ঠান্ডা পানীয় হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং অনেক ক্ষেত্রে সর্দি-কাশির ঝুঁকিও বাড়ায়।

চা ও কফি

ইফতারের পর ভারী খাবার খেয়ে চা বা কফি পান করার প্রবণতা অনেকেরই আছে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ ভারী খাবার এবং তার পরপরই ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

চা-কফি শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি এটি রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার

আমাদের দেশে ইফতারে ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপসহ নানা ধরনের ভাজাপোড়া খাবার খুব জনপ্রিয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর এসব অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পেটে গ্যাস, অস্বস্তি, মাথাব্যথা, অবসাদ এমনকি আলসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নিয়মিত ইফতারে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের বিভিন্ন জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে আলসার কিংবা ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

কী খাবেন ইফতারে?

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইফতারে সুষম ও হালকা খাবারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। খেজুর, দই, সবজি, ইসবগুলের শরবত এবং সহজপাচ্য খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করা ভালো। এতে শরীর দ্রুত শক্তি পায়, হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়।

সচেতন খাদ্যাভ্যাসই পারে রমজানে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সহায়তা করতে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement