যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের মধ্যে অধিকাংশই অতিদরিদ্র

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের মধ্যে অধিকাংশই অতিদরিদ্র ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:১৪, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে ৬৮ লাখ মানুষ অতিদরিদ্র্যের জালে আটকে আছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ) মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।

ব্রিটেনে ‘অতিদরিদ্র্য’ বলতে বোঝানো হয় এমন পরিবারকে, যাদের হাতে ভাড়া পরিশোধের পরও যে অর্থ থাকে তা দেশটির জাতীয় গড় আয়ের তুলনায় অত্যন্ত কম।

উদাহরণস্বরূপ, দুই সন্তানের একটি পরিবারের বার্ষিক আয় যদি ১৬,৪০০ পাউন্ডের কম হয়, তবে তারা অতিদরিদ্র পরিবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

জেআরএফ জানিয়েছে, দেশটিতে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি পরিবারের আয় দেশীয় গড় আয়ের তুলনায় কম হওয়ায় তারা এই অতিদরিদ্র্য সমস্যার মুখোমুখি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমেছে। ১৯৯৪-৯৫ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে নেমে এসেছে ২১ শতাংশে। তবে একই সময়ে অতিদরিদ্র্যের হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। শিশুদের দারিদ্র্যও বাড়ছে; বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে এবং গত তিন বছরে দরিদ্র শিশুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার ফলে নিম্নআয়ের পরিবার যদি দুই সন্তানের বেশি সন্তান রাখে, তবে তারা সরকারি সামাজিক সহায়তা পাবেন না। তবে গত এপ্রিলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী রাখায়েল রিভিস এই নিয়ম বাতিল করেন। জেআরএফ সংস্থাটি সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে সতর্ক করেছে যে একমাত্র এই পদক্ষেপ শিশু দারিদ্র্য কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

সংস্থার মতে, দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। এছাড়াও শারীরিক প্রতিবন্ধীরা এ সমস্যায় অতিরিক্ত ভুগছেন। নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের মধ্যে দারিদ্র্যের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, যা সমাজে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement