সরকার গঠনের পরপরই তিন সিটি নির্বাচনে তৎপরতা

সরকার গঠনের পরপরই তিন সিটি নির্বাচনে তৎপরতা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:২৭, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সক্রিয় হয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী সপ্তাহে কমিশনের বৈঠকে বসে নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে জামায়াতসহ তাদের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো। তবে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের বিরোধিতার মুখে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ থেকে সরে আসে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার মাধ্যমে বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। সেদিন বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

সরকার গঠনের তিন দিনের মাথায় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে কমিশন দ্রুত প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করেছে।

আইন অনুযায়ী কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ২ জুন।

সে অনুযায়ী এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ১ জুন। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ২০২০ সালের ৩ জুন, ফলে এর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ২ জুন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চিঠি পাওয়া গেছে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কমিশনের বৈঠকে বসে নির্বাচনের সার্বিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হতে পারে।

তিনি আরও জানান, অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদেরই নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেভাবে প্রভাবমুক্ত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছিল, ভবিষ্যতেও একইভাবে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মেয়র, কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৩৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement