গুলি করে স্ত্রী সন্তানসহ হত্যার হুমকির অভিযোগে যুব দলের দুই নেতা বহিস্কার

গুলি করে স্ত্রী সন্তানসহ হত্যার হুমকির অভিযোগে যুব দলের দুই নেতা বহিস্কার ছবি: সংগৃহীত

রংপুর প্রতিনিধি

Published : ২১:৫০, ২ মার্চ ২০২৬

কারাগারে থাকা এক যুবলীগ নেতার ম্যানেজারের বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী সন্তানসহ গুলি করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে রংপুর জেলা যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। ওই দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ১ মার্চ রবিবার দিবাগত রাতে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন, রংপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর হারুন অর রশিদের (কানা হারুন) ক্যাবল ব্যবসা দখলের চেষ্টা করেন আকিবুল রহমান মনু ও তামজিদুর রশিদ গালিব।

ব্যবসা হস্তান্তর না করায় তারা ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। গত রবিবার বিকালে আকিবুল রহমান মনু তার অনুসারীদের নিয়ে ক্যাবল ওয়ান অফিসে ঢুকে হামলা চালান, ল্যাপটপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন এবং নতুন ফিডার নিয়োগ দিতে চাপ প্রয়োগ করেন।

তাদের এমন হুমকির ধামকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, যুবদল নেতা মনু মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের জিএম কাফিকে ফোন করে বলেন, ‘আজকে বিকালের মধ্যে যদি সমাধান না করিস, তাহলে বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।’ এ সময় তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

একইসঙ্গে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবলীগ নেতার পরিবার থেকে সংবাদ সম্মেলন করায় দ্রুত সমাধান করার জন্য হুমকি-ধামকি দেন এই যুবনেতা। জানা যায়, সানজিদা ইসলাম নামে এক নারী তার স্বামীর ডিস লাইন ও ইন্টারনেট ব্যবসা স্থানীয় যুবদল নেতারা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

ভুক্তভোগী সানজিদার দাবি, নগরীর শাহীপাড়া, কামাল কাছনা ও দখিগঞ্জ শ্মশান পর্যন্ত ডিস লাইন ক্যাবল ওয়ান নেটওয়ার্ক থেকে ক্রয় করে আখলাকুর রহমান খান পপি ব্যবসা করেন। পরবর্তীতে আখলাকুর রহমান খান পপি ডিস লাইন বিক্রি করলে তার স্বামী নিজাম উদ্দিন সুমন ও ভাসুর হারুন অর রশিদ হারুন গত ২০১৫ সালে ক্রয় মুলে চুক্তিপত্র করে।

তখন থেকে তারা এই ডিস লাইন পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তাদের ডিস লাইনের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসাও রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর হঠাৎ করে গালিব ও মানুসহ কয়েকজন যুবদল নেতা তাদের ডিস লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসা জোরপূর্বক কেড়ে নিতে চান।

তারা বিভিন্নভাবে তাকেসহ তার স্বামী এবং ভাসুরকে মারধর ও হত্যার ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষতি করার হুমকি দেন। এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালিব বলেন, ২০১৫ সালে আমাকে জেলে পাঠিয়ে আমার ব্যবসা দখল করা হয়েছে। ব্যবসার কোনো নথি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যবসার কোনো ডকুমেন্টস হয় না।

আমি আমার হক আদায় করে নিচ্ছি। এ ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর জেলার ক্যাবল ওয়ানের সব সিগন্যাল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, নীতি-আদর্শ ও সাংগঠনিক সংহতি পরিপন্থি কার্যকলাপের অভিযোগে রংপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু এবং সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল।

গত রবিবার দিবাগত রাতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। পাশাপাশি যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement