ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলিরেজা

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলিরেজা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:১৭, ২ মার্চ ২০২৬

ইরানের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে ঘিরে দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রায় আড়াই দশক ধরে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা এই প্রভাবশালী আলেমকে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় আগেই শীর্ষে রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে ধারণা ছিল।

খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে আরাফি এখন ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কেবল একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন; গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারণী পরিমণ্ডলেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ইরানের ধর্মীয় শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুম শহরের আন্তর্জাতিক ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

এই কুম নগরী থেকেই ভবিষ্যৎ আয়াতুল্লাহ, বিচারক, চিন্তাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের তৈরি করা হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, আরাফিকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে তাঁর গভীর ধর্মীয় জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দীর্ঘ আধ্যাত্মিক সাধনার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রেখেছে। সুফি ধারা ঘরানার আধ্যাত্মিক সাধনা ‘ইরফান’-এর শিক্ষা তিনি খামেনির কাছ থেকেই গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়।

আরাফি শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না; ইরানের ন্যানো প্রযুক্তি ও পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিনিয়োগ নীতিতেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা শোনা যায়। পাশাপাশি দেশটির শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মাতৃভাষা ছাড়াও পাঁচটি ভাষায় দক্ষতা তাঁর আন্তর্জাতিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান Assembly of Experts–এরও একজন সদস্য।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি শিয়া আধ্যাত্মিক শিক্ষার কঠিন ধাপ ‘তাহযিবুন নফস’-এর অনুশীলন করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত নফল ইবাদত, কুরআন অধ্যয়ন ও নৈতিক আত্মশুদ্ধির চর্চা। ইমাম মাহদীর আগমনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুম শহরে ফিকহ ও দর্শন বিষয়ে পাঠদান করেন এবং ধ্যান ও আত্মসমালোচনার অনুশীলন অব্যাহত রেখেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর ধারণা অর্জন করা আরাফি যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের একটি থিংক ট্যাংকের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর দীর্ঘ আধ্যাত্মিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পথচলাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে, যা ভবিষ্যতে ইরানের নেতৃত্বের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement