বন্ধ হলো কাতারের এলএনজি উৎপাদন, চরম চাপে বাংলাদেশ

বন্ধ হলো কাতারের এলএনজি উৎপাদন, চরম চাপে বাংলাদেশ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:১২, ৩ মার্চ ২০২৬

ড্রোন হামলার জেরে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি উৎপাদকদের অন্যতম কাতারএনার্জি সাময়িকভাবে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক গ্যাসবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাতার আন্তর্জাতিক বাজারে বড় সরবরাহকারী হওয়ায় উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় এলএনজির আন্তর্জাতিক দাম দ্রুত বেড়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একটি হামলার লক্ষ্য ছিল মেসাইয়িদ শিল্পনগরের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংক, অন্যটি ছিল রাস লাফানে অবস্থিত কাতারএনার্জির একটি জ্বালানি স্থাপনা। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাস লাফান কমপ্লেক্সে মূলত রপ্তানির জন্য এলএনজি প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে, অর্থাৎ অস্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তিগত দায়বদ্ধতা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমুদ্রপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি বহনকারী অন্তত ১৫০টি জাহাজ প্রণালি কিংবা তার আশপাশে নোঙর করে আছে। আনাদোলু সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেল ও এলএনজি পরিবহন প্রায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে এবং প্রায় ৭০০ জাহাজ প্রণালির দুই প্রান্তে আটকা পড়েছে।

বিশ্ববাজারে কাতারের এলএনজি রপ্তানির অংশ প্রায় ২০ শতাংশ। উৎপাদন স্থগিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো রেচেল জিয়েম্বা বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম্যাকসিম সোনিনের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেলেও ২০২২ সালের ইউরোপীয় গ্যাস সংকটের মতো দীর্ঘমেয়াদি বড় সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বর্তমানে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। কাতারএনার্জির মোট বিক্রির প্রায় ৮২ শতাংশই এশিয়ার বাজারে যায়। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এশিয়া ও ইউরোপ—উভয় অঞ্চলে গ্যাসের দাম বেড়েছে। সোমবার ডাচ ও ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের মানদণ্ডমূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, আর এশিয়ার মানদণ্ড এলএনজির দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় কমিশনের গ্যাস সমন্বয় গ্রুপ বুধবার বৈঠকে বসছে। সেখানে সদস্য দেশগুলো গ্যাসের মজুত পরিস্থিতি, সরবরাহব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement