জামায়াতে ইসলামী নেতা ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনার মুখে জামায়াত আমির দাবি করেছেন, তার এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে।
তবে, জামায়াত আমিরের এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, যদি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা সত্যি হয়, তবে ১২ ঘণ্টা পরে কেন জিডি করা হলো, তা বোঝা যাচ্ছে না।
রোববার রাজধানীর গুলশানস্থ বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পোস্টের প্রকাশ এবং হ্যাকের দাবির সময়সূচি প্রশ্নবিদ্ধ।
মাহদী আমিন আরও বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্যে নারীর প্রতি বিদ্বেষ ও হীন মনোভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, জামায়াতের অতীত আচরণে নারীদের ওপর প্রকাশ্য অপমান, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য এবং সংসদে নারী প্রার্থীর উপস্থিতি নিয়ে তাচ্ছিল্য।
এছাড়া, জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রীরা বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করছেন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের পোশাক-পরিচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, দেশের নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গার্মেন্টস, প্রশাসন, গণমাধ্যম, খেলাধুলাসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই অবস্থানকে অগ্রাহ্য করে নারীদের উদ্দেশ্য করে এমন মানসিকতা বর্বর ও মধ্যযুগীয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি এবং দেশের মানুষ কোনোভাবেই নারীর মর্যাদা হরণ, অপমান বা নিপীড়ন মেনে নেবে না।
মাহদী আমিন বলেন, দেশ ও সমাজে নারীর সম্মান রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস, কোনো ভয় বা পিছু হটা নেই। তারা নিশ্চিত করতে চান, নারী, মা ও বোনদের প্রতি অবিচার ও হেনস্থা বরাবর প্রতিহত হবে এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের মর্যাদা রক্ষা করা হবে।
যুগে যুগে নারীরা বিপদ ও সংকটে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা সমাজ ও দেশের স্বার্থে নিজেদের অবদান রেখেছেন। মাহদী আমিন বলেন, জামায়াতের এই ধরনের মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড সেই ইতিহাসকে অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
সর্বশেষ, তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিএনপি ও জনগণ নারীর মর্যাদা রক্ষায় অবিচল এবং স্থির প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো রাজনৈতিক চাপ বা হুমকি নারীর মর্যাদা রক্ষা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
































