আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাবেন তারেক রহমান
Published : ১৬:০৬, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, আর এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁও সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তার এই বহুল প্রত্যাশিত আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য, উদ্দীপনা ও সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।
আগামীকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। জনসভা অনুষ্ঠিত হবে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (বড় মাঠ) মাঠে। জনসভাকে কেন্দ্র করে মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দ ব্যবস্থা এবং সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে তিনি বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এরপর হেলিকপ্টার যোগে ঠাকুরগাঁও শহিদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করে গাড়ি যোগে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (বড় মাঠ) মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের জনসভা শেষে দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে পার্শ্ববর্তী নীলফামারী পৌরসভার বড় মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন এবং দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় উপস্থিত হবেন।
এর আগে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে একটি শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২৩ বছর পর তার এই আগমনকে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। স্থানীয়রা এটিকে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার অবসান ঘটানোর একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছেন।
দলীয় নেতারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনকে। কারণ এটি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনী এলাকা। তাই এই আসনকে ঘিরে বিএনপির কৌশল, প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা অন্য যে কোনো জেলার তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী।
জেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুজ্জামান কামু দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “দীর্ঘ ২৩ বছর পর আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন। এটি শুধু একটি জনসভা নয়, এটি আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জেলার প্রতিটি ইউনিট এবং প্রতিটি কর্মী এই জনসভাকে সফল করতে দিনরাত কাজ করছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা ও আবেগ দেখা যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশের মতো নয়।”
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের আগমন মানেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন প্রত্যাশা। ঠাকুরগাঁও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। এই জনসভা থেকে একটি শক্ত বার্তা দিতে চাই যে মানুষ আর পিছিয়ে থাকতে চায় না এবং ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস জানান, দীর্ঘ ২৩ বছর পর তারেক রহমানের আগমন নারী সমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ঘরে ঘরে নারীরা জনসভা নিয়ে কথা বলছেন, প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারীরা সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। তারেক রহমানের রাজনীতি নারী অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার কথা বলে। সেই কারণে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস বলেন, “তারেক রহমানের আগমন ছাত্র সমাজের জন্য নতুন অনুপ্রেরণার বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও শিক্ষাঙ্গনে অধিকারহীনতার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা এই জনসভা নতুন করে প্রতিবাদের শক্তি জোগাবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে কর্মসূচি সফল করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে শিক্ষার্থী-বান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী ও গণতান্ত্রিক।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর একের পর এক সরকার আসলেও ঠাকুরগাঁও উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে রয়েছে। জেলা lacks সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক মেডিকেল কলেজ বা বড় শিল্পকারখানা।
কৃষিনির্ভর এই জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। একমাত্র চিনিকল লোকসানে ধুঁকছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর, উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগ, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী জানান, দলের চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে জেলা বিএনপি একাধিক প্রস্তুতি সভা করেছে। কর্মসূচি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে আগেভাগেই নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
জনসভায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট মাঠে থাকবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালিত হবে।
বিডি/এএন




























