ভোটের প্রচারণায় বেরিয়ে হামলার শিকার জামায়াত সমর্থক পিতা-পুত্র
Published : ২০:৫৬, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনি প্রচারণায় যাওয়ার সময় জামায়াত সমর্থক পিতা-পুত্রের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত জামায়াত সমর্থক মাসিকুল ইসলাম (২৩) বাদী হয়ে শুক্রবার তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উভয়পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন মাসিকুল ইসলাম ও তার পিতা মফিজ উদ্দিন (৬২)। তাদের বাড়ি বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামে।
ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মাসিকুল ইসলাম গোদাগাড়ীতে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণার জনসভাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাতেম আলী (৩৮), কর্মী-সমর্থক সাফিউল ইসলাম (৩৫) ও মোহাম্মাদ লিটন (৩০) তাকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালাতে নিষেধ করে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে মাসিকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে মাসিকুলের পিতা ও মাতা তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে তাদেরও কোদালের হাতল ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী আহতদের উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এদিকে আহতদের খোঁজখবর নিতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন তানোর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. আলমগীর হোসেন, নায়েবে আমির মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, সেক্রেটারি ডিএম আক্কাছ আলী, মুণ্ডুমালা পৌর জামায়াতের আমির অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, তানোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ওলামা বিভাগের সভাপতি মুফতি গোলাম কিবরিয়া বিন ইউনুস, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. সানাউল্লাহসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
পরে আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানান অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ শহীদুজ্জামান জানান, ঘটনার পর থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বিডি/এএন




























