বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড ও অন্যান্য ৯ প্রতিশ্রুত

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড ও অন্যান্য ৯ প্রতিশ্রুত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:৩৫, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

এতে মোট ৯টি মূল প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নকে লক্ষ্য করেছে। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তার সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। অনুষ্ঠান শুরু হয় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায়।

নির্বাচনি অঙ্গীকারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি নিম্নরূপ:

১. ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য মাসে ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। এই অর্থ সেবার পরিমাণ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে।

২. কৃষক ও কৃষিখাত: ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ ঋণ ও কৃষি বিমা প্রদান, এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও ক্ষুদ্র কৃষি ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।

৩. স্বাস্থ্যখাত: দেশব্যাপী এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

৪. শিক্ষা: আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

৫. কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন: তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়া: ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যমে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ ও জলবায়ু: দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি: সকল ধর্মের উপাসনালয়ে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও রপ্তানি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি করা হবে।

বিএনপির এই ইশতেহার দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কৃষক, তরুণ, ছাত্র, স্বাস্থ্যকর্মী ও ব্যবসায়ীদের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা হিসেবে প্রতিটি খাতের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে লক্ষ্য করেছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement