জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফজলুল মাহদী এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, এর আগে গত ৫ জানুয়ারির আদেশ অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তা লিখিত কারণ দর্শানোর জবাবসহ আদালতে হাজির হন। তিনি জানান, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ যৌথ বাহিনী আসামিকে গ্রেপ্তার করে টঙ্গী পূর্ব থানার হেফাজতে রাখে। পরে বিষয়টি অবহিত হলে তিনি থানায় গিয়ে আসামিকে নিজ হেফাজতে নেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামি নিজেই তার বয়স ২০ বছর বলে দাবি করেন। সেই বক্তব্য বিশ্বাস করে পুলিশ ফরওয়ার্ডিংয়ে বয়স ২০ বছর উল্লেখ করা হয়। পরে এটি ভুল ছিল স্বীকার করে তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা চান।
আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে বলেন, গ্রেপ্তারের পর ২৮ ডিসেম্বর আসামির জামিন আবেদন করা হলেও অভিযোগ জামিনযোগ্য না হওয়ায় তা নামঞ্জুর করা হয়। এরপর পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হলে বিভিন্ন কারণে শুনানি পিছিয়ে গিয়ে ৫ জানুয়ারি তা অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন আসামিকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ওই শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ার বিষয়ে কোনো আইনি আপত্তি উত্থাপন করা হয়নি। তবে পরবর্তীতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসামির বয়স ১৮ বছরের কম বলে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এরপরই তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত বলেন, শিশু আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির ক্ষেত্রে শিশু আদালতের এখতিয়ার প্রযোজ্য। তাই বয়স নির্ধারণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেবলমাত্র আসামির মৌখিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে বয়স উল্লেখ করাকে তদন্তকারীর অদক্ষতা ও দায়িত্বে গাফিলতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে এই গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


































