ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে ২০০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেন টেস্টের সেই বিতর্কিত মুহূর্তটি এখনও স্পষ্টভাবে ভাসে। জেসন গিলেস্পির করা এক ডেলিভারিতে শচীন টেন্ডুলকারকে এলবিডব্লিউ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আম্পায়ার স্টিভ বাকনর।
সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ব ক্রিকেটে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছিল। ঘটনার ২২ বছর পর ৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই ক্যারিবীয় আম্পায়ার অবশেষে স্বীকার করেছেন, সেটি ছিল তার ভুল সিদ্ধান্ত।
ব্রিসবেন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পেসার জেসন গিলেস্পির একটি বাউন্সি বল ছেড়ে দিয়েছিলেন তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা শচীন টেন্ডুলকার। বলটি তার প্যাডে আঘাত হানলে অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়রা জোরালো আবেদন করেন।
সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তুলে দেন স্টিভ বাকনর। কিন্তু টেলিভিশন রিপ্লেতে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়, বলটি স্টাম্পের অনেক ওপর দিয়ে চলে যেত। ফলে সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
শুধু শচীন নন, গোটা ক্রিকেট বিশ্বই বিস্মিত হয়েছিল ওই সিদ্ধান্তে। ওই ম্যাচে তার এলবিডব্লিউ ছাড়াও আরও কয়েকটি আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
দীর্ঘ ২২ বছর পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে বাকনর স্বীকার করেছেন, শচীনকে এলবিডব্লিউ দেওয়াটা ভুল ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের বরাতে তিনি জানান, পরবর্তীতে রিপ্লে দেখে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন।
তার ভাষায়, এত বছর পরও মানুষ তাকে প্রশ্ন করে কেন তিনি সেই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, শচীন আদৌ আউট ছিলেন কি না। তিনি বলেন, মানুষের জীবনে ভুল হতেই পারে, আর তিনি নির্দ্বিধায় সেই ভুল স্বীকার করছেন। ঘটনাটি এখনও তার স্মৃতিতে স্পষ্ট হয়ে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেই সময় ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা কিংবদন্তি টনি গ্রেগ সিদ্ধান্তটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি একে ‘ভয়ংকর’ সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, বলের বাউন্স ও গতিপথ বিবেচনা করলেই বোঝা যেত এটি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
পরে এ প্রসঙ্গে শচীনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে স্বভাবসুলভ হাস্যরসের আশ্রয় নেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’। তিনি রসিকতা করে বলেন, তিনি যখন ব্যাট করতে নামবেন, তখন আম্পায়ারকে যেন একটি বক্সিং গ্লাভস পরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে খুব সহজে আঙুল তুলতে না পারেন।






























