ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র রমজান মাসে হিন্দু ও মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
মুসলিম সহপাঠীদের নির্বিঘ্নে নামাজ ও ইফতার সম্পন্ন করার জন্য হিন্দু শিক্ষার্থীরা চারপাশ ঘিরে মানববন্ধন তৈরি করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে শিক্ষার্থীদের এই ঐক্যের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ‘লাল বড়দারি’ মসজিদ কমপ্লেক্সে তালা ঝুলিয়ে দেয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রাচীন ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মূলত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সেখানে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক এই ভবনটিকে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-র সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তবে প্রশাসনের এই নিরাপত্তাজনিত যুক্তি গ্রহণ করেননি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, পবিত্র রমজান মাসে হঠাৎ করে নেওয়া এই পদক্ষেপ কার্যত মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একতরফা উদ্যোগ, যা ক্যাম্পাসে তাদের নিয়মিত নামাজ আদায় ও ইফতার আয়োজনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেছে।
এ প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে মুসলিম সহপাঠীদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষার্থে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন হিন্দু শিক্ষার্থীরা। খোলা জায়গায় মুসলিম শিক্ষার্থীরা যখন প্রার্থনায় দাঁড়ান, তখন হিন্দু শিক্ষার্থীরা হাতে হাত রেখে তাদের চারপাশে একটি অভেদ্য সুরক্ষাবলয় তৈরি করেন।
এই দৃশ্য প্রমাণ করে যে প্রশাসনিক বাধা বা বিভেদ শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতিকে ভাঙতে পারে না। লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা এক উজ্জ্বল বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা হিন্দু-মুসলিম সৌহার্দ্য এবং সহনশীলতার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: The Siasat Daily
































