পারস্য বা ইরানের যুদ্ধ নিয়ে কী বলে গিয়েছেন মহানবী (সা.)?

পারস্য বা ইরানের যুদ্ধ নিয়ে কী বলে গিয়েছেন মহানবী (সা.)? ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৫৪, ৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার শুরু হওয়া এ অভিযানের জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পাল্টাপাল্টি হামলার এই ধারাবাহিকতায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এর প্রভাব বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়লে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়াতে পারে।

অন্যদিকে ইসলামি বিশ্বের একটি অংশ বর্তমান ঘটনাপ্রবাহকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। তাদের মতে, এটি কেয়ামতের পূর্বলক্ষণগুলোর একটি হতে পারে। কারণ, বহু শতাব্দী আগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ।

একটি সুপরিচিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী একদল সৈন্য আগমন করবে এবং কেউ তাদের থামাতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা বায়তুল মুকাদ্দাসে সেই পতাকা উত্তোলন করে। এ হাদিসটি ইসলামি জগতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে।

ইতিহাসবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খোরাসান ছিল একটি বিস্তৃত অঞ্চল, যার মধ্যে বর্তমান ইরান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ অঞ্চলের বড় অংশই বর্তমানে ইরানের অন্তর্গত। হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ওই কালো পতাকাবাহী বাহিনী আল আকসা মসজিদ তথা বায়তুল মুকাদ্দাসে পতাকা উত্তোলন করবে। অর্থাৎ, তার আগে পর্যন্ত পবিত্র স্থানটির নিয়ন্ত্রণ মুসলিমদের হাতে থাকবে না।

১৯৮০ সালে ইসরায়েল আইন পাস করে জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী ঘোষণা করে। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ দাবি স্বীকৃতি দেয়নি, বাস্তবে জেরুজালেম ও আল আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে রয়েছে।

আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যখন খোরাসান থেকে কালো পতাকা দেখা যাবে, তখন তাদের সঙ্গে যোগ দিতে বলা হয়েছে, কারণ তাদের মধ্যেই থাকবেন আল্লাহর খলিফা—ইমাম মাহাদী। এ দুই হাদিসের সমন্বয়ে অনেক ইসলামি আলেম মনে করেন, খোরাসান থেকে আগত সেই বাহিনীর নেতৃত্বে ইমাম মাহাদী থাকবেন এবং তারা বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয় করবেন। এটিকে কেয়ামতের আগে অন্যতম বড় আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ‘আল-মালহামা’ নামক একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়, যাকে অনেক ইসলামি বর্ণনায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মহাযুদ্ধের মাধ্যমে ইমাম মাহাদীর নেতৃত্বে বিশ্বে পুনরায় একটি ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাতকে ঘিরে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এটাই কি সেই পূর্বাভাসিত যুদ্ধের সূচনা? বিশেষ করে যখন দেখা যাচ্ছে খোরাসান অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূখণ্ড থেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সত্য একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তবুও চলমান পরিস্থিতির নানা দিক অনেককেই হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement