ফরিদপুরে নারীর ঘরে পুলিশ কর্মকর্তা আটক! অতঃপর....
Published : ১৭:৪১, ৩ মার্চ ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক নারীর বাড়িতে অনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আটক হওয়ার ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, ঘটনাটির পর ওই এসআইকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও পরে রফা-দফার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার (২ মার্চ) উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মিলন কুমার হাওলাদার বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা এলাকায়।
ভুক্তভোগী নারী জানান, জমি-সংক্রান্ত একটি বিষয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই সূত্রে এসআই মিলন কুমারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযোগের তদন্তের অজুহাতে মিলন কুমার বিভিন্ন সময় লোক মারফত এবং সরাসরি একাধিকবার তাকে কু-প্রস্তাব দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি ভাঙ্গায় তার বাড়িতে আসারও প্রস্তাব দেন।
নারীর ভাষ্য, তিনি কোনোভাবেই এ প্রস্তাবে সম্মত হননি। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা হঠাৎ তার বাড়িতে উপস্থিত হন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেন। তখন তিনি তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে নিজে থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে ওই এসআইকে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, থানায় নেওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ আর করবেন না বলে আশ্বাস দেন। তবে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি আবারও হুমকি ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
অন্যদিকে এসআই মিলন কুমার হাওলাদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জমি-সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রেই ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয়। তিনি বলেন, সোমবার তাকে ইফতারের দাওয়াত দিয়ে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর পরিকল্পিতভাবে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই ওই ব্যক্তি সেখানে গিয়েছিলেন। মনোমালিন্যের খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় আনে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে মঙ্গলবার সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. আব্দুল হালিম বলেন, মিলন কুমার হাওলাদার তাদের থানার একজন দারোগা এবং প্রায় দেড় বছর ধরে সেখানে কর্মরত। তিনি জানান, সোমবার তিনি সাক্ষ্য দিতে গেছেন বলে জানা গেছে। এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিডি/এএন































