‘আমি আবার মরলাম কবে?’ প্রশ্ন মালেকা বেগমের
Published : ১৪:০৮, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিধবা ভাতা পাওয়া মোছা. মালেকা বেগম (৭০) হঠাৎ করেই জানতে পারেন—সরকারি নথিতে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে।
অথচ তিনি জীবিত। বিষয়টি জানার পর হতভম্ব হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা। বিস্ময় আর ক্ষোভে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আবার মরলাম কবে?’
ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের বাসিন্দা মালেকা বেগম মৃত চান মিয়ার স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিত বিধবা ভাতা পেয়ে আসছিলেন।
তবে গত দুই কিস্তি, অর্থাৎ প্রায় ছয় মাস ধরে তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ভাতার টাকা জমা হচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি উপজেলা সদরের সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে জানতে পারেন—সরকারি রেকর্ডে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে এবং তার স্থলে অন্য একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ কথা শুনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন মালেকা বেগম। তিনি অফিসের কর্মচারীদের প্রশ্ন করেন, ‘আমি তো বেঁচে আছি—তাহলে আমাকে মৃত বানালো কে?’
গণমাধ্যমকে মালেকা বেগম বলেন, তিন মাস পরপর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার টাকা পেতেন এবং স্থানীয় দোকান থেকে টাকা তুলে কোনোমতে দিন কাটাতেন। কিন্তু ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেলেও তিনি এখনো নিশ্চিত নন। তার প্রশ্ন—জীবিত থাকা সত্ত্বেও কে বা কারা তাকে মৃত দেখিয়ে এমন অন্যায় করল?
সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, কোনো ভাতাভোগী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মালেকা বেগমের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন মালেকা বেগমের মৃত্যু সনদসহ একটি প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেন। তার সুপারিশে একই গ্রামের মো. আবদুল হাই (৭০) নামের এক ব্যক্তিকে ভাতাভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় কোনো ধরনের যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ঘটেছে। বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুল ইসলাম আকন্দ জানান, মালেকা বেগম যেন দ্রুত পুনরায় বিধবা ভাতার অর্থ পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিডি/এএন































