আমি দুঃখিত - এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন বিল গেটস
Published : ১৪:৩৩, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে যৌন অপরাধে দণ্ডিত কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বখ্যাত দাতব্য উদ্যোক্তা বিল গেটস।
এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, সে সময়গুলো তার জীবনের ভুল সিদ্ধান্তের অংশ। একই প্রসঙ্গে তার সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস জানান, এই সম্পর্ককে ঘিরে এখনও বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম নাইন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, “আমি তার সঙ্গে যত মিনিট সময় কাটিয়েছি, প্রতিটি মিনিটের জন্য অনুশোচনা করি এবং ক্ষমা চাই।”
এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশ করে। এসব নথিতে ইমেইল, ছবি ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ধনকুবেরের সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
প্রকাশিত দলিলগুলোর মধ্যে থাকা একটি খসড়া ইমেইলে এপস্টেইন দাবি করেন, বিল গেটসের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বিস্তৃত। ওই ইমেইলে তিনি লেখেন, গেটসের কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জটিলতা সামলাতে মাদক সংগ্রহে সহায়তা করা থেকে শুরু করে বিবাহিত নারীদের সঙ্গে তার গোপন সাক্ষাতের আয়োজনেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
তবে এই ইমেইলটি কখনো পাঠানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিল গেটস স্পষ্টভাবে বলেন, ইমেইলের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তার ভাষায়, “ইমেইলটি কখনো পাঠানো হয়নি। আমি জানি না, সে কেন এমন কথা লিখেছিল। হয়তো আমাকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই এসব বলা হয়েছিল।”
গেটস আরও জানান, এপস্টেইন অনেক ধনী মানুষের সঙ্গে পরিচিত ছিল এবং দাবি করত যে তাদের কাছ থেকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। সেই আশায় যোগাযোগ রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন এটি ছিল ভুল সিদ্ধান্ত।
বিল গেটস জানান, ২০১১ সালে প্রথম এপস্টেইনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তী তিন বছরে কয়েকবার নৈশভোজে অংশ নেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনো এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপে যাননি এবং কোনো নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াননি।
নথি প্রকাশের পর বিল গেটসের এক মুখপাত্রও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, প্রকাশিত কাগজপত্র কেবল এটিই প্রমাণ করে যে, গেটসের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে না পেরে এপস্টেইন হতাশ হয়ে পড়েছিল এবং অপবাদ ছড়ানো বা ফাঁদ পাতার জন্য সে কতদূর যেতে পারত।
বিডি/এএন

































