গণভোটের এখতিয়ার সংসদের হাতে, আদালতের নয়- জামায়াত

গণভোটের এখতিয়ার সংসদের হাতে, আদালতের নয়- জামায়াত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:৪৪, ৩ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, গণভোট সংক্রান্ত বিষয়টি মূলত জাতীয় সংসদের এখতিয়ারভুক্ত হলেও তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (০২ মার্চ) রাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, দেশে যাতে আর কখনও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো সর্বসম্মতিক্রমে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এখন জাতীয় সংসদের আলোচ্য বিষয়। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি আদালতের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তাদের মতে সঠিক পথ নয়। তিনি আহ্বান জানান, যেহেতু বিষয়টি সংসদীয়, তাই সংসদ সদস্যদেরই তা নিষ্পত্তি করতে দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, অতীতেও জাতীয় সংসদের কিছু বিষয় আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে, যার ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং জাতীয় জীবনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদালতের কাঁধে ভর করে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলেই গত ১৬ বছর দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি তারা আর দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন জুবায়ের। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়টি জাতির সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। যেহেতু এটি গণভোটের মাধ্যমে পাস হয়েছে, তাই তারা অবিলম্বে এর কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চান।

অন্যদিকে অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানান, সোমবার দুটি পৃথক রিট পিটিশনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি রিটে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং সাংবিধানিক সংস্কার সভা গঠনের বিষয়ে কেন সাংবিধানিক ঘোষণা দেওয়া হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আরেকটি রিট পিটিশনে গণভোট অধ্যাদেশের যে ধারায় প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫—সেগুলোকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

ওই রিটে আইন মন্ত্রণালয়, কেবিনেট ডিভিশনের সচিব, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করা হয়েছে, যাতে এ বিষয়ে কোনো পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়। এ রিটের ওপরও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement